Friday, 23 August 2019




অসমাপ্ত ভালোবাসা,,,,,,,,,

বিয়ের পাঁচ মিনিট আগে "সুমাইয়া" আমাকে মেসেজ দিল,
"আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে,
আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও"

তাড়াতাড়ি করে ফোন দিলাম, ফোন কেটে দিয়ে মেসেজ দিল  "বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাই আছে এখন কথা বলা যাবেনা"

আবারো শেষ মেসেজ ছিল "ক্ষমা করে দিও"
আসলে সেই মূহূর্তে কেউ তার প্রেমিকাকে ক্ষমা করতে পারবে কিনা আমার জানা নেই।
তাকে ক্ষমা করব কি করবনা সেটা নিয়ে তখন ভাবিনি  শুধুএটা ভেবেছিলাম,
তার বিয়ে হয়ে গেলে আমি কি করে থাকব?

একবার গাড়ির নীচে পড়ে আমার পা আলাদা হয়ে রাস্তার নীচে পড়েছিল, আমি যখন জোরে চিৎকার করলাম তখন খেয়াল হল আসলে আমি এটা স্বপ্ন দেখছিলাম আমার পায়েরতো কিছুই হয়নি।

"সুমাইয়া" মেসেজের কথোপকথন শেষ হওয়ার পরও ভাবছিলাম এটা স্বপ্ন হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যে আমার ঘুম ভেঙ্গে যাবে।
আমি জোরে চিৎকার দিয়েও দেখি ঘুম ভাঙ্গেনি,  দু'চোখ বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়তেছ।

সে রাতে আমি একটুও ঘুমাইনি, সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার চেষ্টা করেছি ফোন দিতে কিন্তু মোবাইল বন্ধ।

সকাল এগারোটা।
পরিত্যাক্ত বাড়ির ছাদে শুয়ে আছি, রাত থেকে কিছুই যায়নি পেটে,
 এক কাত হয়ে শুয়ে থাকার কারনে দুইটি চোখের পানি একই দিকে নামতেছে।

সাড়ে এগারোটার দিকে "সুমাইয়া" আমাকে ফোন করে বলতেছে,
"বিশ্বাস করো বিয়েটা আমার ইচ্ছাতে হয়নি"
জানতে চেয়েছি,
"তুমি বাধা দিয়েছিলে? যেন বিয়েটা না হয়।"
"সুমাইয়া" কোন কথা বলেনি।
আবারো বললাম, যেহেতো তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বিয়েটা হয়েছে তাহলে তুমি চলে এসো, আমি তোমাকে আবার বিয়ে করব,
"সুমাইয়া" উত্তরে বলেছিল, "মেয়েদের বিয়ে একবারই হয়"

নিজেকে বড্ড বেহায়া আর নির্লজ্জ মনে হয় ,তবুও আমি "সুমাইয়া" একটি ফোনের জন্য চাতক পাখির মত অপেক্ষা করি,
"সুমাইয়া" আমাকে প্রায়ই ফোন দেয়।

ফোন দিয়ে সে তার শশুর শাশুড়ীর প্রশংসা করে,
তাকে নাকি নিজের মেয়ের মতই আদর যত্ন করে।
কখনো তার স্বামীর প্রশংসা করে, তার স্বামী তাকে অনেক ভালবাসে, ভাল একটা চাকুরী করে ইত্যাদি। আর আমি বেহায়ার মত "সুমাইয়া" সুখের গল্প শুনি,,,

ফোনের শেষের কথাগুলো থাকে আবেগে ভরপুর,
"দূর্জয়" তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও, আমি তোমাকে ঠকিয়েছি, তুমি আমাকে ভুলে যাও।"
.
আর যখন বলি, হ্যাঁ আমি তোমাকে আস্তে আস্তে ভুলতে শুরু করেছি।
তখন তার অভিমানী সুর, "আসলে তুমি আমাকে কখনো ভালবাসোনি, ভালবাসলে আমাকে ভুলতে পারতেনা।"

একেকবার নিজের ভুল স্বীকার করে বলে, "জানো? আমি দুই নৌকায় পা দিয়েছি, স্বামীর ভালবাসাও ছাড়তে পারিনা, তোমাকেও ভুলতে পারিনা।"
আমি তাকে কি করে বুঝাব যে আমার পক্ষেও তাকে ভুলে যাওয়া সম্ভবনা, তাইতো নির্লজ্জের মত কথা বলি।
কি করব? দেড়টা বছর একই সূতায় গাঁথা ছিল মন, কন্ঠস্বরটি শুনতে যে বড্ড ইচ্ছে করে।

বাবা একদিন ধমক দিয়ে বলেছিল, "দাড়ি গোঁফ দিয়ে দেবদাস হচ্ছিস কেন? মুখ সেভ করিসনা কেন?
আসলে মনেই নেই কবে সেভ করেছিলাম, আয়নায় নিজের চেহারা দেখা হয়না সেই কবে থেকে।
 ভাঙ্গা মন নিয়ে জীবন ধারনটা কতটা কষ্টকর সেটা শুধু যাদের মন ভেঙ্গেছে তারাই বলতে পারবে।

এভাবে আর চলতে দেয়া যায়না, "সুমাইয়াকে" মুক্তি দিয়ে দেব, দেখা গেল কখনো আমারই কারনে তার সুখের সংসার ভাঙ্গতে পারে।
আমি দূরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকব সেটাই ভাল, দূর থেকেই তার সুখ কামনা করব।

মাঝে মধ্যে নিজেকে গাড়ীর হেডলাইট মনে হয়, দূর বহু দূর পর্যন্ত পথ খুঁজে বেড়ায়।
আমিও খুঁজি তবে সামনে শুধু অন্ধকারই দেখি,
কবে যে অন্ধকারে পথ চলতে গিয়ে কোন গর্তে হোচট খেয়ে পড়ে থাকি কে জানে?

পুরোনো কথাগুলো মনে পড়ছে, "সুমাইয়া" বলত তার জীবনে আমার আগমন আশীর্বাদ স্বরূপ,
এখন নিজেকেই অভিশপ্ত মনে হচ্ছে।
বালিশের সাদা কাভারে নতুন দাগ লেগে যাচ্ছে, প্রতি রাতে বালিশ আমার চোখের জল শুষে নিলেও দাগটা ঠিকই থেকে যাচ্ছে।

প্রতিনিয়ত একবুক জ্বালা নিয়েও তার সুখ কামনা করি, ভাল থাকুক "সুমাইয়া" স্বামী সংসার নিয়ে। আমি আর কোনদিন তার পথে কাটা হতে আসবনা।
মোবাইল থেকে সিম কার্ড নিয়ে মুখে দিলাম,
দাঁতে চিবিয়ে গুঁড়া করে ফেলে দিয়েছি।
"সুমাইয়া" আর চাইলেও ফোন দিতে পারবেনা।
"এই ব্যাথা আমারি থাক চাইনা কারো শান্তনা",,,,,,,,,,😢😢

Thursday, 22 August 2019

ভালোবাসা

আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না.
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না.
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না.
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না. কিংবা বিকেল
বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না. এত
অসীম সংখ্যক “না”এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার “ভালবাসি” বলব
তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে “পাগলি”
বিশ্বাস কর !